উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ৩০/১০/২০২৬ ৯:২৩ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় গ্যাসের আগুনের উৎসস্থল ও আশপাশের ২০০ মিটারের মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা জারি করে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজ সংলগ্ন একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ঘটনাস্থলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়। মানচিত্রদেখুন

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগুনের উৎস ও সংলগ্ন এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগুনের উৎসস্থল থেকে আনুমানিক ২০০ মিটারের মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্যাস নির্গমনের স্থান ও আশপাশের এলাকায় আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের জারি করা আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ রোধ ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জননিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া এসব নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত

কক্সবাজার টেকনাফের হ্নীলা হোয়াইক্যং সীমান্তে বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে ঘরবাড়ি, ধারণা করা হচ্ছে মিয়ানমারের ওপারে ...

কক্সবাজারে বাস-প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে একই পরিবারের দুজন নিহত, আহত ২

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বানিয়ারছড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ...